নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): পঞ্চায়েত ভোটে নিজের মনোনীত প্রার্থীদের দল টিকিট না দেওয়ায় আগেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। নিজের পছন্দের প্রার্থীদের নির্দল হিসেবে ভোটেও দাঁড় করিয়েছেন। এবার খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার দিনই পাল্টা নিজের অনুগামী নির্দল প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
হুমায়ুন একা নন, মুর্শিদাবাদের আরও কয়েক জন তৃণমূল বিধায়কও তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বলে খবর। দলের বিধায়কদের এ হেন বিদ্রোহে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রীতিমতো অস্বস্তিতে শাসক দল। এ দিন অবশ্য বিধায়কদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
আগামিকাল, মঙ্গলবার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করতে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নিজে সভা করতে এলেও পাল্টা নিজের অনুগামী নির্দল প্রার্থীদের বহরমপুরের টেক্সটাইল মোড়ে সভা করবেন হুমায়ুন কবীর। ভরতপুরের বিধায়ককে অবশ্য পুলিশ সভা করার অনুমতি দেয়নি। হুমায়ুন তবুও সভা করার বিষয়ে অনড়। তাঁর আরও দাবি, হরিহরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখও তাঁর সঙ্গে সভায় থাকবেন।
দলের বিধায়কের এই বিদ্রোহে রীতিমতো অস্বস্তিতে শাসক শিবির। মুর্শিদাবাদে ভোট প্রচারে এসে সভা না করার জন্য হুমায়ুনকে অনুরোধ করেছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। তাতেও অবশ্য বরফ গলেনি।
নিজের অনুগামীরা পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট না পাওয়ায় আগেই সরব হয়েছিলেন হুমায়ুন। দলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের আরও বেশ কয়েকজন বিধায়ক। সালার ও ভরতপুর অঞ্চল থেকে বেশ কয়েকজন নির্দল প্রার্থীকেও ভোটে দাঁড় করিয়েছেন হুমায়ুন। দলের জেলা সভাপতিকে সরানোর দাবিও তুলেছেন তিনি। সবমিলিয়ে মুর্শিদাবাদে দলীয় বিধায়কের বিদ্রোহে বেশ বিপাকে শাসক দল।
এই পরিস্থিতিতে এ দিন হুমায়ুনকে কড়া বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। হুমায়ুনের নাম না করেও দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘দল কিন্তু বেশিদিন বিধায়কদের এই আচরণ সহ্য করবে না। কে কতবার দল বদলায়, সেটা মানুষ জানে। সব সময় উপর তলার কথা শুনে প্রার্থী ঠিক হবে, তা হয় না। মিলিত ভাবে প্রার্থী ঠিক হয়েছে। দল সব কিছু নজর রাখছে। ভোটের সময় কারও অধিকার নেই এমন মন্তব্য করার।’




