spot_img
- Advertisement -

গাড়িতেই হার্ট অ্যাটাক প্রৌঢ়ের! গ্রিন করিডর করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ‘হিরো’ পুলিশকর্মী
মৃত্যুর মুখ থেকে বিশ্বনাথ বাবুকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর স্ত্রী ও হাসপাতালের চিকিৎসক সকলেই অকুণ্ঠ প্রশংসা করছেন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক গার্ডের ইনস্পেক্টর শৌভিক চক্রবর্তীর।
গাড়িতেই হার্ট অ্যাটাক প্রৌঢ়ের! গ্রিন করিডর করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ‘হিরো’ পুলিশকর্মী

স্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন পাইকপাড়ার বাসিন্দা বিশ্বনাথ দাস। অফিস থেকে বেরোনোর সময় ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন দম্পতি। ব্রেবোর্ন রোডের উড়ালপুলে উঠতেই ঘটে বিপত্তি। অসম্ভব বুকে ব্যথা অনুভব করেন বিশ্বনাথবাবু। যা দেখে ভয় পেয়ে যান তাঁর স্ত্রী। চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন তিনি! তাঁদের পরিস্থিতি জানতে পেরে গ্রিন করিডর করে বিশ্বনাথবাবুকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন এক পুলিশ কর্মী।

জানা গেছে, সোমবার ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল পাঁচটা। সেই সময় ব্রেবোর্ন রোড এলাকা চত্বরে ডিউটিতে ছিলেন হাওড়া ব্রিজের ট্রাফিক গার্ডের ইনস্পেক্টর শৌভিক চক্রবর্তী। তাঁর কাছে খবর যায় ব্রেবোর্ন রোডের উড়ালপুলে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়েই বাইক ছোটান তিনি।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে শৌভিকবাবু দেখেন উড়ালপুলের মাঝখানে একটি গাড়ি দাঁড় করানো আছে। আর একজন মহিলা উদ্‌ভ্রান্তের মতো এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছেন। শৌভিকবাবু ওই মহিলাকে আশ্বস্ত করেন। তারপর বিশ্বনাথবাবুকে দেখে বুঝতে পারেন, তাঁর শরীরের অবস্থা ভাল নয়।

শৌভিকবাবু বুঝতে পারেন অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। কিন্তু কলকাতার রাস্তার বিশাল ট্রাফিক পেরিয়ে সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তখন শৌভিকবাবু ঠিক করেন গ্রিন করিডর করে বিশ্বনাথবাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ততক্ষণে খবর চলে গেছে মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে। কিন্তু ঘটনাস্থলে নেই একটাও ট্যাক্সি, এমনকী অ্যাম্বুলেন্সও পাওয়া যায়নি। এদিকে ঘড়ির কাঁটায় সময় বয়েই চলেছে। যত সময় যাচ্ছে, ততই বিশ্বনাথবাবুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। অগত্যা সরকারি গাড়ি করেই তড়িঘড়ি তাঁকে মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছে দেন শৌভিক। ব্রেবোর্ন রোড থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি গাড়ির আগে আগে নিজের বাইকে চেপে হাসপাতালে যান শৌভিকবাবু। বিকেলের ব্যস্ত সময়ে মাত্র ৭ মিনিটে হাসপাতালে রোগী সমেত গাড়িটি পৌঁছে যায়। তারপর বিশ্বনাথবাবুকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করার ব্যবস্থাও করে দেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিশ্বনাথবাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। আগের তুলনায় তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই ভাল। হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে অক্সিজেন ও নেবুলাইজার দেওয়া হয়। ইসিজিও করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করা গেছে বলে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে বিশ্বনাথ বাবুকে

মৃত্যুর মুখ থেকে বিশ্বনাথবাবুকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর স্ত্রী ও হাসপাতালের চিকিৎসক সকলেই অকুণ্ঠ প্রশংসা করছেন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক গার্ডের ইনস্পেক্টর শৌভিক চক্রবর্তীর

RELATED ARTICLES
spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments