নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): সদ্য মাতৃহারা নরেন্দ্র মোদীকে সমবেদনা জানালেন মমতা। হাওড়া স্টেশনে রেলের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি রেলমন্ত্রী থাকাকালীনই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা ৫টি রেল প্রকল্পের মধ্যে ৪টির পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছিল। হয়েছিল বাজেট বরাদ্দও।
তিনি বলেন,’ডানকুনি-শক্তিগড়, চাঁপদানি-বৈঁচি ও আমবাড়ি-ফালাকাটা। ২০১০ এবং ২০১১-১২ বাজেটে ছিল। কয়েকটি প্রকল্প ছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানায়। চারটির মধ্যে পাঁচটিই আমার জমানার। আপনি উদ্বোধন করেছেন, তাতে আমি খুশি। বন্দে ভারত দিয়েছেন বাংলাকে। সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
জলপাইগুড়ি স্টেশনের আধুনিকীকরণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই পরিকল্পনাও তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত বলে জানান মমতা। তাঁর কথায়,’রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ভিশন ২০১০ এবং শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিলাম। ওই ভিশনে ৫১টি স্টেশনের আধুনিকীকরণের কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে জলপাইগুড়িও ছিল।’
মাতৃহারা প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যে অবিচল। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ভারচুয়ালি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রেলের সবুজ পতাকা হাতে হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উদ্বোধনের আগে যদিও হাওড়া স্টেশনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাওড়ায় অতিথিদের জন্য তৈরি মঞ্চে বসে থাকা বিজেপি সাংসদ, বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জোর গলায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুলতে থাকেন। তা মুখ্যমন্ত্রীর কানে পৌঁছনো মাত্র তাঁর শরীরী ভাষা বদলাতে থাকে। বোঝাই যায়, অত্যন্ত বিরক্ত, ক্ষুব্ধ হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সঙ্গেই তা সামলানোর চেষ্টা করেন বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার। হাতজোড় করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন রেলমন্ত্রী। যদিও শেষমেশ মঞ্চে ওঠেনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে দর্শকাসন থেকেই বক্তব্য রাখেন। অংশ নেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও।




