নিজস্ব সংবাদদাতা শম্পা ঘোষ, কোলকাতা :দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ন্যাশনাল এডুকেশন ফোরাম-এর উদ্যোগে কলকাতা প্রেস ক্লাব-এ অনুষ্ঠিত হলো “নতুন দিশা: ভারতের বিপ্লবী শিক্ষা নীতির উপর জাতীয় আলোচনা” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্স।এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও চিন্তাবিদরা একত্রিত হয়ে ভারতের পরিবর্তনশীল শিক্ষা নীতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বক্তারা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনী এবং ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফোরামের সদস্যদের প্রস্তুত করা একটি গবেষণাপত্রের উন্মোচন, যেখানে আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং টেকসই শিক্ষা সংস্কারের জন্য বিভিন্ন নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
এদিন প্রকাশিত হয় “সাম সংবিধান সার ” নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যার লক্ষ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতীয় সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বইটি হিন্দি, বাংলা ও ইংরেজি—তিনটি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি, যারা পড়তে বা লিখতে অক্ষম, তাদের জন্য একই বিষয়বস্তু তিনটি ভাষায় অডিওবুক হিসেবেও উপলব্ধ করা হয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।অনুষ্ঠানে একটি প্রাঞ্জল মূল বক্তব্যে বৈশ্বিক শিক্ষার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতের নিজস্ব শিক্ষাগত ঐতিহ্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এরপর এক প্রাণবন্ত প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও তার বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে মতামত বিনিময় করেন।শেষে অনুষ্ঠিত হয় একটি ইন্টারেক্টিভ মিডিয়া সেশন, যেখানে সাংবাদিকরা সরাসরি বক্তা ও আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
সম্মেলনের শেষে ন্যাশনাল এডুকেশন ফোরাম শিক্ষা ক্ষেত্রে সংলাপ, গবেষণা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং আশা প্রকাশ করে যে, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলবে।




