নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): “অনুব্রতর এই অবস্থার জন্য রাজ্য সরকার দায়ী”, এমনই বললেন সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। রবিবার বোলপুরের শিবপুরে অনিচ্ছুক জমিদাতাদের নিয়ে পথ সভা করে বাম-কংগ্রেস। সিপিআইএম নেত্রী আরও বলেন, “কারখানা চাই, কারখানা না হলে অপা বাগানবাড়ি হতে দেব না।”
বোলপুরের শিবপুর মৌজায় শিল্পের নামে বাম আমলে ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু হয়নি শিল্প। রাজ্যে পালাবদলের পর শিল্পের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে দেখা গেল শিল্পের বদলে এখানে আবাসন প্রকল্প হল। আর এতেই বেঁকে বসেন জমিদাতা চাষিরা। তাদের স্পষ্ট দাবি, প্রথম থেকেই শিল্প হলে জমি দেব। না হলে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কারণ, শিল্প হলে কর্মসংস্থান হবে। তাই জমি ফেরতের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই শিবপুরে জমি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাষিরা।
অন্যদিকে, দেউচা-পাচামি খোলামুখ কয়লা খনির জন্য জমি দিতে নারাজ আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের মানুষজন। তাদেরও স্পষ্ট বক্তব্য, এই প্রজন্ম না হয় জমি দিয়ে সরকারের কাছ থেকে চাকরি পাবে, টাকা পাবে। পরবর্তী প্রজন্ম কী করবে? এদিন, বোলপুরের শিবপুরে জমি বাঁচাও আন্দোলনকারীদের নিয়ে পথসভা করে বাম-কংগ্রেস। ছিলেন সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান সহ অন্যান্যরা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “শিল্প করতে হবে। কারখানা চাই। কারখানা, শিল্প না হলে আমরা এখানে বাবুর বাগান বাড়ি বানিয়ে ফুর্তি করতে দেব না। ‘অপা’ বানাতে দেব না। কচি কচি বান্ধবীদের নিয়ে ফুর্তি করতে দেব না। বেআইনি মদ আর বেআইনি মেয়েদের নিয়ে ব্যবসা করতে দেব না। আমরা চাই কাজ। আমরা মাথা উচু করে বেঁচে থাকতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “তিহার জেলে গিয়েছে এক নেতা। পিছন পিছন মেয়েটাকেও ডেকে ঢুকিয়ে দিয়েছে পাশের সেলে।
ওর মেয়ের (অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যা) দোষ নেই।” পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “অনুব্রত মণ্ডলের এই অবস্থা হওয়ার জন্য রাজ্য সরকার দায়ী। সিস্টেম দায়ী। মানুষ খেকো বাঘকে মেরে তাড়াতে হবে।”
আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে সব আসনেই প্রার্থী দেবে বামেরা। এমনকি, সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইবে সিপিআইএম, জানালেন বাম নেত্রী। শিবপুরের পথসভা শেষে একই ভাবে দেউচাতে সভা করে বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব। খনি বিরোধী মানুষজনকে নিয়ে সভা করেন তাঁরা।




