নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): মকরসংক্রান্তির পুণ্যস্নান এখনও দিন বারো-তেরো দূরে। তার অনেক আগেই, আজ, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন গঙ্গাসাগরে। সাগর মেলার প্রস্তুতি পরিদর্শনের পর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন তিনি। নয়া হেলিপ্যাডেরও উদ্বোধন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া, বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রীদের ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করবেন। পরে কপিলমুনির আশ্রমে পুজোও দেবেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।
গত কয়েক বছর সুষ্ঠুভাবে গঙ্গাসাগর (Gangasagar) মেলার আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের জন্যও নিখুঁত বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যার ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে পুণ্যার্থীর সংখ্যা। তাছাড়া এবছর কুম্ভমেলাও নেই। তার উপরে গত দু’বছর করোনার জন্য বহু পুণ্যার্থী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাগরে আসতে পারেননি। ফলে এ বছর মেলায় রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী জমায়েতের ব্যপারে আশাবাদী রাজ্য সরকার। প্রশাসনের ধারণা অন্তত ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ পুণ্যার্থী এবারে সাগরে পুণ্যস্নান করতে পারেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ এবার আরও বেশি। তবে রাজ্য সরকার সবরকমভাবে প্রস্তুত। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সবটা দেখে নিতে চাইছেন।
ডুমুরজলার আদলে তৈরি হয়েছে সাগরের নয়া হেলিপ্যাড। অবতরণের পর হেলিপ্যাডের উদ্বোধন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার দুপুরের পর থেকে একাধিক কর্মসূচি নিতে পারেন বলেই সূত্রের খবর। অন্যান্য বছরের মত সাগরের ভারত সেবাশ্রম সংঘে সন্ন্যাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন তিনি। রাতে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।সাগরস্নানের আগে প্রশাসনের চিন্তা ভাঙন। কপিলমুনির আশ্রমের সামনে সমুদ্রতট ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেটা সারানোর কাজ চলছে। প্রায় ৭০ মিটার লম্বা সমুদ্র তটে পরিবেশবান্ধব বস্তায় বালি ভরে ফেলা হচ্ছে। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এ দিন কাকদ্বীপের লট-৮, কচুবেড়িয়া বাসস্ট্যান্ড ও গঙ্গাসাগর মেলা চত্বরের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। সঙ্গে ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক।




