নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): আবাস যোজনা নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। এরই মাঝে এবারে জনরোষ থেকে বাঁচতে পঞ্চায়েত প্রধান, উপ-প্রধান সহ ১৭ জন সদস্যের গন-ইস্তফা। ঘটনা সালারের। একসঙ্গে এতজন তৃণমূল নেতার ইস্তফার ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল জেলা জুড়ে। মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর ২ অর্থাত্ সালারের মালিহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা।অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রচুর পরিবার আছে, যারা ঘর পাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু সার্ভে করতে গিয়ে সেই সমস্ত পরিবারের আবাস যোজনার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। শনিবার বিকেলে পঞ্চায়েত অফিসে এসে সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্য একই অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে বসে সিদ্ধান্ত হয় ইস্তফা দেওয়ার। পরবর্তীতে ভরতপুর ২ অর্থাত্ সালার ব্লকের বিডিও অফিসে এসে প্রধান, উপ-প্রধান সহ ১৭ জন সদস্যই গণ ইস্তফা দেন।
উপ-প্রধান মণিকা দাস বলেন, ‘আমাদের গ্ৰামে অনেক যোগ্যদেরই নাম ঘর প্রাপকের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তারা সকলেই ভাববেন পঞ্চায়েত সদস্যদের কথাতেই তাদের নাম বাদ পড়েছে। সেই আশঙ্কায় এই গণ পদত্যাগ।’
সৈয়দ নাসিরুদ্দিন, পঞ্চায়েত প্রধান তো সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই কেঁদেই ফেলেন। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গ্ৰামে-ওয়ার্ডে অনেক অসহায় মানুষ আছেন, অনেক বাড়ি আছে যেগুলোর ঝুরঝুরে অবস্থা, অথচ তারা ঘর পাননি। আমরা পঞ্চায়েতের তরফ থেকে বুকে ব্যথা নিয়ে এই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ আমরা চোখে দেখেও কিছুই করতে পারছি না। এরপর হয়তো প্রতিটি পঞ্চায়েত সদস্যর বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্ৰামের মানুষরা ঝামেলা করবে, গালাগাল করবে। সেই থেকে বাঁচার জন্য আমরা এই ইস্তফা দিতে চাইছি। আমরা চাই সেই সব গরীব মানুষগুলো ঘর পাক।’
সেইসঙ্গেই তিনি বলেন, ‘সরকার তৃণমূলের, আমরা কেউ দলের বিরুদ্ধে নই, আমরা শুধু নিজেদের আত্মরক্ষার্থে এই পদে আর থাকব না বলেআমরা শুধু নিজেদের আত্মরক্ষার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা সাধারণ কর্মী হয়েই দলের শ্রীবৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করে যাব।’
এদিকে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় জেলা জুড়ে। শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, পদত্যাগ পত্র গ্ৰহণ হয়নি




