নিজস্ব প্রতিনিধি(সতীশ কুমার): মহারাষ্ট্রের ঠাণেতে নির্মাণস্থলে ক্রেন ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭ জনের। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন এ রাজ্যের চার জন। তাঁরা সকলেই জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ছিলেন। প্রিয়জনের মৃত্যুর খবরে শোকগ্রস্ত পরিবার। ময়নাতদন্তের পর নিহতদের দেহ তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোরে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার শাহপুর তেহসিলের কাছে সড়ক তৈরির সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সমৃদ্ধি এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির সময় নির্মীয়মাণ একটি ব্রিজের উপর ভেঙে পড়ে একটি বিশাল ক্রেন। যে মেশিনটি ভেঙে পড়েছে, তা হল মোবাইল গ্যান্ট্রি ক্রেন। এটি হাইওয়ে ও হাইস্পিড রেল সেতু তৈরির সময় প্রিকাস্ট বক্স গার্ডার ইনস্টল করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সমৃদ্ধি এক্সপ্রেসওয়ের তৃতীয় পর্যায়ের নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণস্থলেই রয়েছেন বহু শ্রমিক। সেখানেই ব্যবহার করা হচ্ছিল গার্ডার লঞ্চিং মেশিনটি। নির্মীয়মাণ একটি সেতুর উপর বিরাট ক্রেনটি আছড়ে পড়তেই কংক্রিটের স্ল্যাব শ্রমিকদের উপর ভেঙে পড়ে। এখনও পর্যন্ত ১৭ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে খবর। দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনডিআরএফ।
জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের তালিকায় রয়েছেন ধূপগুড়ির ঝাড়আলতা-১ পঞ্চায়েতের পশ্চিম ডাউকিমারি গ্রামের বাসিন্দা গণেশ রায় এবং উত্তর কাঠুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ রায়। তাঁদের দু’জনেরই বয়স চল্লিশের মধ্যে। এ ছাড়া ময়নাগুড়ির আমগুড়ি চারেরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুব্রত সরকার এবং বলরাম সরকারেরও মৃত্যু হয়েছে ওই দুর্ঘটনায়। এ প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, ‘‘দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তারা তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছেন। ধূপগুড়ির দু’জনের দেহের ময়নাতদন্ত হয়ে গিয়েছে। বাকিদের দেহ ময়নাতদন্তের পর পাঠানো হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম সাহায্য করা হচ্ছে।’’




