নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): ক্যাম্পাসের ভিতরে নয়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)-এর সরস্বতী পুজো হবে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে। কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দেওয়ায় তাঁদের এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএমসিপির আহ্বায়ক প্রান্তিক চক্রবর্তী। মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরেই হবে তাঁদের সরস্বতী পুজো।
দু’দিন আগেও প্রেসিডেন্সির টিএমসিপির ছাত্রনেতারা হুঙ্কার দিয়েছিলেন, ক্যাম্পাসে সরস্বতী পুজো করা থেকে তাঁদের ‘কেউ আটকাতে পারবে না’। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদল করতে দেখা গেল তাঁদের। প্রান্তিকের দাবি, তাঁরা কোনও সংঘাত চান না। সেই কারণেই ক্যাম্পাসে নয় গেটের বাইরেই পুজোর আয়োজন করা হবে।
সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিমার চারপাশে থাকবে বিভিন্ন ধর্মের প্রতীক। পিছনে থাকবে তেরঙ্গা অর্থাৎ জাতীয় পতাকা। প্রতিমা হবে ডাকের সাজের। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ বলছে, ২৬ জানুয়ারি ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সেই সাধারণতন্ত্র দিবসেই এবার সরস্বতী পুজো হচ্ছে। তাই প্রতিমার সঙ্গে থাকবে জাতীয় পতাকা। আবার ধর্মনিরপেক্ষতার অজুহাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই পুজোর অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষতাকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাই তারা সেই ‘সেক্যুলার’ বিষয়টিকেই থিমের মাধ্যমে তুলে ধরছেন পুজোয়। বার্তা একটাই, “দেশ ধর্মনিরপেক্ষ, প্রেসিডেন্সিও ধর্মনিরপেক্ষ। তাই পুজো হচ্ছেই।”সেই সঙ্গে এবার পুজোয় সৌজন্যতার নজির গড়ছে টিএমসিপির প্রেসিডেন্সি ইউনিট। যারা পুজোয় বাধা দিয়েছিলেন, রাজনৈতিকভাবে বিপক্ষ, সেই এসএফআই-আইসির সদস্যদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। আমন্ত্রিত প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনীরাও। এ প্রসঙ্গে টিএমসিপির প্রেসিডেন্সির ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অরিত্র মণ্ডল বলেন, “আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসা না আসা তাঁদের ব্যাপার। তবে অনেকেই আসবেন বলে কথা দিয়েছেন।” পুজো করবেন প্রাক্তনী রাজন্যা হালদার। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সূত্রে খবর, ক্যাম্পাসে এক গন্ডগোলে আক্রান্ত হয়েছিলেন রাজন্যা। সেই মহিলা পুরোহিত তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীর হাতেই পুজো পাবেন বাগদেবী।




