নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): দিদির সুরক্ষা কবচ’-এ অভিযোগ জানাতে এসে তৃণমূলের এক কর্মীর কাছে চড় খেতে হল স্থানীয় এক বাসিন্দাকে! উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত ইছাপুর নীলগঞ্জ পঞ্চায়েতের সাইবনা এলাকার ঘটনা। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ তখন কাছাকাছিই ছিলেন। তখনই তৃণমূল কর্মীর হাতে আক্রান্ত হন ওই স্থানীয় বাসিন্দা। আক্রান্ত যুবকের নাম সাগর বিশ্বাস। অভিযোগ, মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাতে এলে প্রথমে তৃণমূল কর্মীদের কাছে শাসানি জোটে। পরে তাঁকে কষিয়ে থাপ্পড়ও মারেন এক স্থানীয় কর্মী। পরে ধাক্কা দিতে দিতে ঘটনাস্থল থেকে বারও করে দেওয়া হয় সাগরকে।
অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত যুবক যাতে কোনও কথা না বলেন তা নিয়েও ওই তৃণমূল কর্মীরা সাগরকে হুমকি দেন। যদিও পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে আক্রান্ত যুবকের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে নেন মন্ত্রী রথীন।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে। সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা কথা শুনতে দলনেত্রীর নির্দেশে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচি’ শুরু হয়েছে সারা বাংলা জুড়ে। সেই কর্মসূচিতেই ‘দিদির দূত’ হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত ইছাপুর নীলগঞ্জ পঞ্চায়েতের সাইবনা এলাকায় পৌঁছেছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। গ্রামের রাস্তা, পানীয় জল এবং আবাস যোজনায় ঘর পাওয়ার সমস্যা নিয়ে গ্রামবাসীদের অনুযোগ-অভিযোগের কথা শুনছিলেন মন্ত্রী রথীন। সেখানেই নিজেদের কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে গিয়েছিলেন স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির কয়েক জন সদস্য। সেই কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাগরও।অভিযোগ, নিজেদের দাবি নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎই সাগরের উপর চড়াও হন স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী। জনসমক্ষে চড় মেরে ধাক্কা দিতে দিতে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এর পরই সরব হন সাগর। মন্ত্রীর কাছে গিয়ে অভিযোগও জানান।
সাগরের কথায়, ‘‘আমি স্থানীয় মন্দির কমিটির এক জন সদস্য। মন্ত্রী আসবেন শুনে কমিটির পক্ষ থেকে মন্দির সংক্রান্ত কয়েকটি কথা বলতে আমাকে পাঠানো হয়েছিল। মন্দির কমিটির অন্য সদস্যরাও ওখানে উপস্থিত ছিলেন। আমরা মূলত মন্দিরের সামনের রাস্তা এবং নাটমন্দির নিয়ে তৈরি হওয়া কিছু সমস্যার কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে কোনওকারণ ছাড়াই আমাকে মারধর করা হয়।’’
মন্ত্রীর দাবি, যখন পুরো ঘটনাটি ঘটছে তখন তিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকলেও সাগরকে চড় খেতে তিনি দেখেননি। তাঁর দাবি, যা হয়েছে তা ‘ব্যক্তিগত সমস্যা’-র কারণে হয়েছে এবং এই বিষয়ে তিনি মাথা ঘামাবেন না। যদিও ঘটনা জানার পর সাগরের কাছে ‘দুঃখিত’ বলে ক্ষমা চেয়েছেন রথীন।
পাশাপাশি মন্ত্রীর বক্তব্য, তিনি শুনেছেন যে বিরোধী গেরুয়া শিবিরের কর্মী সাগর। তিনি বলেন, ‘‘যিনি মার খেয়েছেন, শুনলাম তিনি বিজেপির মণ্ডল কমিটির সদস্য।’’ যে তৃণমূল কর্মী সাগরকে মেরেছেন তাঁর সম্পর্কে এবং কেন গায়ে হাত তোলা হয়েছে, সেই বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্ত্রী রথীন জানিয়েছেন। সাগরের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হতেও শুরু হয়েছে।




