নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): এপ্রিলের মাঝামাঝি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আচমকাই তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা। তথ্য লোপাটের চেষ্টায় বাড়ির পিছনে থাকা পুকুরে নিজের দুটি মোবাইল ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল বিধায়কের বিরুদ্ধে।
পাম্পের সাহায্য জল ছেঁচে টানা প্রায় তিনদিনের চেষ্টায় পুকুরের কাদা পাঁক থেকে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার মোবাইল দুটি উদ্ধার করেছিলেন তদন্তকারীরা।
টানা প্রায় তিনদিন জলের তলায় থাকা এই মোবাইল দুটি থেকে আদৌ কোনও তথ্য উদ্ধার করা যাবে কী না, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন তদন্তকারীরা। তবে সূত্রের খবর, জীবনকৃষ্ণর দুটি মোবাইল থেকে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা । বিধায়কের চ্যাটের কথোপকথন দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় গোয়েন্দাদের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরারা।
কী রয়েছে বিধায়কের মোবাইল চ্যাটে? তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চাকরি দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত যাদের চাকরি দিতে পারেননি সেই সব চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে জীবনকৃষ্ণের কথোপকথনের একাধিক তথ্য রয়েছে ওই চ্যাটে। সেখানে টাকা ফেরতের অনুরোধ করেছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। পাল্টা হিসেবে বিধায়কের তরফে কখনও ‘অর্ধেক টাকা ফেরত্ দেওয়ার আশ্বাস’, কখনও বা ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে এক পয়সা না দেওয়ার হুঁশিয়ারি’ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, চাকরি দেওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে ১২ লক্ষ, কারও কাছে ১৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বিধায়ক। এক গোয়েন্দা কর্তার কথায়, ‘এতদিন যা ছিল অভিযোগ, এবার সেটাই বলছে খোদ বিধায়কের মোবাইলের চ্যাট হিস্ট্রি!’
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যে জেলবন্দি রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্য সহ শিক্ষা দফতরের প্রাক্তন একাধিক কর্তা। জেলবন্দি রয়েছেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাও। নিয়োগ দুর্নীতিতে এবার তাঁর মোবাইলের চ্যাট হিস্ট্রিই তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।




