নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়);দ্বিতীয়বার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়া হয়েছিল বিহার থেকে। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে এমনই জানাল রেল। তারপরই বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যের শাসক দলকে বদনাম করতেই এতদিন মিথ্যাচার চালাচ্ছিল গেরুয়া শিবির। ব্যর্থ হয়েছে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
বন্দে ভারতে পাথর ছোড়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবারই প্রকাশ্যে এসেছে একটি নতুন তথ্য। যা জানিয়েছে খোদ রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্বরেলের জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী জানান, বন্দে ভারতে পাথর ছোড়ার বিষয়ে তাঁদের হাতে কিছু তথ্য হাতে এসেছে। ট্রেনে লাগানো সিসি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, বন্দে ভারতে যখন পাথর ছোড়া হয়েছে তখন সেটি যাচ্ছিল বিহারের মধ্যে দিয়ে। এমনকি, ট্রেনের পাশে বেশ কয়েক জনকে দাঁড়িয়েও থাকতে দেখা যায়। একলব্য জানান, তাঁরা প্রাথমিক ভাবে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, ওই এলাকাটি বিহারে। কিষানগঞ্জ জেলার মানগুরজান স্টেশনে ঢোকার মুখে সেই ঘটনা ঘটেছে। এর পরই বিজেপি নেতা দিলীপকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ওই জবাব দে
দিলীপ বলেন, ‘‘এক দিন নয়, দু’দিন ঘটেছে এই ঘটনা। আর এক দিন মালদহেও ঘটেছে। হতে পারে জায়গা দুটো কাছাকাছি। কিন্তু বাংলায় তো এমন ঘটনা নতুন নয়, তাই বিজেপি বলেছে। এর আগে পুরুলিয়া এক্সপ্রেসেও ঢিল মারা হয়েছিল। সেটাকে তো আর বাংলার বাইরে বলা যায় না।’’ এমনকি বন্দে ভারত নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনকে আক্রমণের সপক্ষে টেনে আনেন পুরনো প্রসঙ্গও। দিলীপ বলেন, ‘‘গোটা পশ্চিমবঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভের সময় তো রেলের আড়াইশো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল বাংলাতেই।’’ যদিও দিলীপ প্রকাশ্যে এসে বিজেপির আক্রমণের জবাব দিলেও সুকান্ত এবং শুভেন্দুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বৃহস্পতিবার এই বিতর্কে রাজ্যের শাসক দলের হয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, ‘‘বাংলায় যারা রয়েছেন, বিজেপি নেতাদের বাংলা এবং বাঙালি বিদ্বেষ একমাত্র লক্ষ্য। বাংলাকে বদনাম করা, বাংলার অপমান করা তাঁদের একমাত্র কাজ। বন্দে ভারত চলার দু’মাসের মধ্যে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে আক্রমণ হয়েছিল বন্দে ভারতের উপর। উত্তরপ্রদেশে কাদের শাসন চলে আমরা জানি। তার পরও এরা নির্লজ্জের মতো বাংলা থেকে নির্বাচিত হয়ে বাংলার মানুষের ভোট পেয়ে বাংলার বিরুদ্ধাচরণ করে। বাংলাকে দেশের মানচিত্রে কালিমালিপ্ত করতে চায়। বাংলার মানুষ এ সব দেখছে। তারা আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবে।’’
রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র তথা তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, ‘পূর্ব রেলের অধিকর্তা স্বীকার করে নিলেন বন্দে ভারতে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বাংলার নয়, বিহারের। অর্থাৎ বিজেপি নেতাদের মিথ্যাচার, বাংলার মুখে কালি লাগানোর অপকৌশল ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মরিয়া চেষ্টা আরও একবার মাঠে মারা গেল! আহা রে!’




