নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে গরু পাচার কোনো টাতেই ফাঁকি দিতে পারেন নি তৃণমূলের হেভী ওয়েট নেতারা। এক এক করে সব কজন কে ধরেছে ইডি। ফাঁক পায়নি বীরভূমের অনুব্রত মন্ডলও। একের পর এক নথি তার বিরুদ্ধে জোগাড় করেছে সিবিআই। তারপরে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এবার তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অনেক আগেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হত কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টে আগেই নাকি মামলা করে রেখেছিল অনুব্রত বলে জানায় ইডি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই বুধবারই দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে অনুব্রত মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে প্রশ্ন করেন, এখনও কেন অনুব্রতকে দিল্লিতে নিয়ে এসে জেরা করা হয়নি? কীসের বাধ্যবাধকতা রয়েছে? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে আদালতে জানানো হয়, দিল্লি আসা রুখতে আগেই দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করে রেখেছেন অনুব্রত।
সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, সেই মামলায় তো কোনও রায় বেরোয়নি, দিল্লি হাইকোর্টে কোনও স্থগিতাদেশও দেয়নি। অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে আসা যেতেই পারে। সেখানে কোনও বাধা থাকতে পারে না। এরপরই প্রক্রিয়া শুরু করে অনুব্রত মণ্ডল। এখন আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারে রয়েছেন কেষ্ট। রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরই আসানসোল বিশেষ সিবিআই আদালতের দ্বারস্থ হয় ইডি।বৃহস্পতিবার আদালত নির্দেশ দেয়, অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যেওয়া যেতে পারে। সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবারই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হতে পারে দিল্লি। তাই এখন মহা বিপাকে কেষ্ট। এত কিছু করেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। অনেক আগেই এনামুল হক ও সায়গল হোসেনকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হয়েছে এই গরু পাছার মামলার জন্য। অনুব্রত মণ্ডলকেও দিল্লি নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তক্কে তক্কে ছিল কিন্তু ঘটনাচক্রে আচমকাই শিবঠাকুর মণ্ডল নামে এক তৃণমূল কর্মীর অভিযোগ একটা বড়ো সরো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। শিবঠাকুর মণ্ডল নামের ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে নাকি দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই গলা টিপে খুনের চেষ্টা করেছিলেন অনুব্রত। চার লাইনের একটা অভিযোগ, তাতে কোনও এভিডেন্স ছিল না, তার ভিত্তিতেই দুবরাজপুর থানার পুলিশ অনুব্রতকে গ্রেফতার করে। তার আগে অবশ্য সিবিআই হেফাজতে ছিলেন অনুব্রত।
পুলিশি গ্রেফতারির পর অনুব্রতর ঠিকানা হয় দুবরাজপুর পুলিশ হেফাজত। ফলে সেক্ষেত্রে অনুব্রতর দিল্লি যাত্রা সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ব্যহত হয়। মূলত ইডি অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যেতে চায় কয়েকটি বিশেষ কারণে। অনেকগুলি তদন্তের সমাধান হওয়া বাকি। যেমন কয়েকটি বাফার অ্যাকাউন্টের তথ্যের সন্ধান করতে হবে। তত্ব মারফত জানা যাচ্ছে, বীরভূমের বিভিন্ন জেলার ব্যাঙ্কে সেই অ্যাকাউন্টগুলি রয়েছে।
পাশাপাশি বীরভূমের বিভিন্ন সমবায় ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে কার নামে টাকা ঢুকেছে, কত টাকা বেরিয়েছে, কাদের নামে অ্যাকাউন্ট, তাও খতিয়ে দেখতে চান তদন্তকারীরা। কারণ ইডি-র হাতে তথ্য এসেছে, আধার-প্যান লিঙ্কের নাম করে নথি সংগ্রহ গ্রামের একাধিক বাসিন্দাদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল।
পাচারের টাকা সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে ঢুকেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এখানেই শেষ নয়, শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের অ্যাকাউন্টেও টাকার গরমিল মিলেছে, সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে, জানাতে পারে নি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি মেয়ে, ভাগ্নে, গাড়িচালকের অ্যাকাউন্টেও যে টাকার হদিশ মিলেছে, তার উৎস কী, তাও খতিয়ে দেখতে চান তদন্তকারীরা। সেই কারণেই দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে তাঁকে বলে জানা গেছে।




