নিজস্ব প্রতিনিধি(সতীশ কুমার): অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সোমবার তাঁর একটি টুইট নিয়ে শোরগোল পড়েছে। টুইটে সেলিমের লেখা একটি বিশেষ শব্দ নিয়ে দলের অন্দরেও সমালোচনার মুখে তিনি। আর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে লেখায় তৃণমূল তো খড়্গখস্ত বটেই।
অভিষেককে কটাক্ষ করতে গিয়ে সোমবার সেলিম লিখেছেন, ‘মাফিয়া ডন…মেক্সিতো, ইতালিতে যেখানে খনিজ সম্পদ লুঠ হয়, অস্ত্র পাচার হয়, সেরকম এখানে শিক্ষকের চাকরি নিয়ে তাঁদের টাকাপয়সা লুঠ করে বিদেশী বান্ধবীদের মাধ্যমে…।’ তাঁর সংযোজন, ‘পতিতাদের অ্যাকউন্ট ভাড়া নিয়ে তা ব্যবহার হয়েছে।’ গোল বেধেছে এই ‘পতিতা’ শব্দটি নিয়েই।
বিরোধী রাজনীতিকের ভূমিকা থেকে সেলিম অভিষেককে আক্রমণ করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা করতে গিয়ে যে শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছেন, সেটি নিয়ে তাঁর দলের সতীর্থরাই সেলিমের সমালোচনা করতে শুরু করেছেন। সিপিএমের মহিলা এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব স্পষ্টই বলছেন, তাঁরা এই শব্দটি সমর্থন করেন না।
মহিলা কমরেডদের একাংশ সেলিমের শব্দচয়ন নিয়ে ক্ষুব্ধ। টালিগঞ্জের এক যুবনেত্রীর কথায়, ‘‘এই সমস্ত ছোট ছোট বিষয়ের কারণে অনেক দোদুল্যমান লোকজন আমাদের সঙ্গে বিজেপির ফারাক করতে পারছেন না।’’ সিপিএমের এক তরুণ নেতা বলেন, ‘‘সেলিমদা হয়তো অসতর্ক হয়ে ওই শব্দটি লিখেছেন। সেটাকে আমি সমর্থন করছি না। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে, পার্ক স্ট্রিটের ধর্ষিতা সুজেট জর্ডন সম্পর্কে তৃণমূলের মহিলা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেছিলেন, খদ্দেরের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল!’’
মহম্মদ সেলিমের এই মন্তব্যের পরেই পালটা প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এক ট্যুইটে তিনি লেখেন, ‘কয়েকবছর আগের কথা। পার্টির কাজ আছে বলে এক নামী নেতা বান্ধবীর সঙ্গে একটি রাজ্যের হোটেলে চলে যান। এ বিষয়ে আপনার কিছু জানা আছে মহম্মদ সেলিম?’




