নিজস্ব প্রতিনিধি(সতীশ কুমার)মঙ্গলবার কম ধকল সামলাতে হয়নি কেষ্টকে। এদিন সাতসকালে আসানসোল সংশোধনাগার থেকে বের করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় জোকা ইএসআই হাসপাতালে। সেখান থেকে কলকাতা বিমান বন্দর। সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ বিমানে উড়ে যাওয়া দিল্লিতে। বিমানবন্দর থেকে সোজা অনুব্রতর স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির এক হাসপাতালে। সেখান থেকে সোজা দিল্লিতে ইডির সদর দপ্তরে। এরপরেও নিস্তার পায়নি কেষ্ট। কেষ্ট দিল্লি পৌঁছনো মাত্রই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে রাতেই শুনানির ব্যবস্থা করে ইডি। রাত দেড়টা পর্যন্ত চলেছে শুনানি। শেষে অনুব্রত মণ্ডলকে তিন দিনের জন্য ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক রাকেশ কুমার৷
এদিকে বুধবার থেকেই হেফাজতে অনুব্রত মণ্ডলকে জেরা শুরু করে দিয়েছে ইডির আধিকারিকরা। জেরার জন্য তৈরি করা হয়েছে ৬ সদস্যের বিশেষ দল। সূত্রের খবর, এই ৬ সদস্যের দলে সনিয়া ছাড়াও রয়েছেন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর বিবেক আর ওয়াদেকার, স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাহুল নবীন, দলে থাকছেন সনিয়া নারাং। থাকছেন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর মনিকা শর্মাও। দলে রাখা হয়েছে সুনীল কুমার যাদব, যোগেশ শর্মা, ও সোহান কুমার শর্মার মতো অফিসারদের।
জানা গিয়েছে, এই বিশেষ দলের নেতৃত্ব দেবেন এক বিশেষ মহিলা আইপিএস। নাম সনিয়া নারাং, যিনি বর্তমানে ইডি-র অন্যতম স্পেশাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। ইডির ডিরেক্টর সঞ্জয় মিশ্রর অধীনে যে চার ডিরেক্টর রয়েছেন, সনিয়া তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত ডাকসাইটে বলেই পরিচিত। শুধু বুদ্ধিতেই নয়, গায়ের জোরেও যে কাউকে মাত করে দিতে পারেন ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট সনিয়া।
জানাগেছে, এই জাদরেল আইপিএস সনিয়া নারাং অভিযুক্তদের প্রশ্নবানে পর্যুদস্ত করতে ওস্তাদ। প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর না পেলে তো কথাই নেই। শোনা যায় জেরা চলাকালীন অসহযোগিতা করায় একসময় নাকি এক বিজেপি বিধায়কের গালেও ঠাসিয়ে চড় বসিয়েছিলেন তিনি। কর্নাটকের একটি আর্থিক দুর্নীতি ফাঁসে তাঁর ভূমিকা সকলের নজর কেড়েছিল। বারবারই নানা কাজের জন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছেন এই সনিয়া নারাং। গোরুপাচার মামলায় গ্রেপ্তার বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে জেরা করে কতটা সফলতা পান সনিয়া এখন সেটাই দেখার।




