নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): বছরের শুরুতেই সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা রাজ্য সরকারের। ২০১৪ সালের টেট দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের আবেদন নাকচ করল শীর্ষ আদালত। ‘এ নিয়ে যা বলার তা ওখানে (হাইকোর্টে) বলুন’, রাজ্যকে সাফ জানাল শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কিষেণ কউলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। অর্থাৎ এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ।
২০১৪-র টেটে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। গত বছর ২২ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে ২০১৪ প্রাথমিক টেটের সার্বিক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সিবিআইয়ের তদন্ত চেয়ে সংশ্লিষ্ট জনস্বার্থ মামলা করেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর অভিযোগ, ২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে নিযুক্ত অনেকে ভুয়ো টেট সার্টিফিকেট দেখিয়ে চাকরি করছেন। এমনকি, অভিযোগ ওঠে, মেধাতালিকায় অনেক পেছনে থাকা সত্ত্বেও পরে তাঁদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়। ‘অবৈধ’ ওই নিয়োগ পেয়ে বহু প্রার্থী এখনও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। অথচ তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি নম্বর পেলেও চাকরি মেলেনি বহু প্রার্থীর। সব মিলিয়ে ২০১৪-এর টেট নিয়ে ভুরিভুরি অভিযোগ ওঠে।প্রসঙ্গত, সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টে যায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। রাজ্যের তরফে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদীর দাবি, ‘২০১৪ সালের ঘটনায় ৮ বছর পর মামলা দায়েরের পেছনে উদ্দেশ্য কী? এই মামলা অন্তঃসারশূন্য। তাই মামলা খারিজ করা হোক।’ রাজ্যের সওয়াল শুনে বিচারপতি সঞ্জয় কিষেণ কউল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করবে না সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য সরকারের যা বলার হাইকোর্টে বলতে হবে। মামলা খারিজের আবেদনও জানাতে হবে সেখানেই। স্বাভাবিকভাবেই ‘সুপ্রিম’ ধাক্কায় রাজ্যের টেট দুর্নীতি মামলায় অনেকটা ব্যাকফুটে চলে গেল রাজ্য সরকার, এমনই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।




