নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের কয়েক মাস পরের ঘটনা। নেতাজি ইনডোর থেকে দলের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায বলেছিলেন, কেউ কাটমানি নিয়ে থাকলে ফেরত দিয়ে দিন। তেইশের পঞ্চায়েত ভোটের আগে গোটা রাজ্যে যখন ‘দিদির দূত’রা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে এবং ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে তখন মুর্শিদাবাদের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে তাত্পর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মমতা।তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কারও কাছ থেকে যদি প্রাপ্তি নিয়ে থাকেন তাহলে ফেরত দিয়ে দিন। তাতে মানুষের অনেক ভাল হবে। মানুষ আপনাকে ভুল বুঝবে না। মানুষের কাছে বারবার ক্ষমা চাইলে মানুষ ক্ষমা করবে।’
মমতা এদিন সরকারি অনুষ্ঠান থেকে দলের উদ্দেশে বার্তা দিতে চান। তাঁর কথায়, ‘লোভ করবেন না। একজন-দু’জন খারাপ হতে পারে, সবাই খারাপ নয়। যদি কেউ অন্যায় করে থাকেন ক্ষমা চেয়ে নিন।’
এ ব্যাপারে বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের চাপে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হলেন তাঁর দলের নেতাদের প্রাপ্তি যোগ লেগেছিল। কিন্তু মানুষ আর ক্ষমা করবে না তৃণমূলকে। কারণ তাঁরা চোখের সামনে দেখছেন, কীভাবে তৃণমূলের নেতাদের সম্পত্তি বেড়েছে, কীভাবে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে।’
আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যখন নিচুতলার তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা তখন মমতার এ হেন ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ তাত্পর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আবাস যোজনা নিয়ে গুচ্ছগুচ্ছ অভিযোগ উঠেছে। কোথাও দেখা গিয়েছে পাকা বাড়ি রয়েছে তাও শাসকদলের নেতার আত্মীয় বলে প্রাপকের তালিকায় নাম উঠেছে। আবার কোথাও নাম উঠিয়ে দেওয়া হবে এই আশ্বাস দিয়ে কেউ টাকা নিয়ে বসে রয়েছেন। মনে করা হচ্ছে সার্বিক এই প্রেক্ষাপটেই ‘প্রাপ্তি’ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন মমতা।
এদিন মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপিকেও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘রাম, বাম, শ্যাম, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সব এক হয়ে গিয়েছে। আর তৃণমূল বাঘের বাচ্চার মতো একা লড়াই করছে।’




