নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): এখানে বসে আছেন, তাঁদের প্রথম কর্তব্য নিশ্চয়ই সংসারের প্রতি? স্বামীর প্রতি? আমিও তাই করেছিলাম। ভেবেছিলাম মানুষের কাজ করবে, মানুষের সেবা করবে। ওকে তৃণমূল ছাড়তেও না করেছিলাম। কিন্তু ভোটের সময় দলবদল নেশা হয়ে দাঁড়ায়।”
সৌমিত্রকে ‘ভোটপাখি’ বলেও কটাক্ষ করেন সুজাতা। তাঁর সংযোজন, ‘‘এই দলবদলু, ধান্দাবাজ সাংসদ যখন আদালতের নির্দেশে নির্বাসিত হয়েছিলেন, তখন আমি তাঁর স্ত্রী হিসাবে কর্তব্য পালন করেছিলাম। ভেবেছিলাম, তিনি মানুষের জন্য কাজ করবেন। মানুষ তাঁকে কাছে পাবে। কিন্তু তিনি ভোট এলেই আসেন, ভোট পেরোলেই চলে যান। এই ভোটপাখিকে নিজের এলাকায় ঢুকতে দেবেন না।’’এখানেই থামেননি সুজাতা। সাংসদ সৌমিত্রকে তাঁর লোকসভা এলাকায় যাতে ঢুকতে না দেওয়া হয়, তারও আবেদন রাখেন আমজনতার কাছে। তিনি বলেন,‘‘যে নিজের স্ত্রীকে মর্যাদা দিতে পারে না, সে অন্যদেরও মর্যাদা দিতে পারে না।’’ সৌমিত্র-জায়ার মন্তব্য, ‘‘আমি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সাংসদের সঙ্গে থাকতে পারলাম না। তখন নিজের দলবদলু, ধান্দাবাজ চরিত্র লুকোনোর জন্য চোখে গ্লিসারিন লাগিয়ে কেঁদে নাটক করে প্রকাশ্যে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করলেন! এটাই বিজেপির চরিত্র। ওরা নারীদের সম্মান দিতে জানে না।’’
প্রসঙ্গত, সৌমিত্র-সুজাতার দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু গত বছর। রাজনীতির ময়দানে বরাবর একসঙ্গে লড়াই করলেও সুজাতা মণ্ডল খাঁ ২০২১-এ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেন। তার পরপরই সাংবাদিক বৈঠক করে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন সৌমিত্র। সেদিন প্রকাশ্যে স্ত্রীর জন্য চোখের জল ফেলতেও দেখা গিয়েছিল বিজেপি সাংসদকে। রাজনীতির প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে পড়া কখনই উচিত নয়, এই কথা পালটা শোনা গিয়েছিল সুজাতার মুখে।




