নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়)শনিবার বিকেলে পুলিশের সঙ্গে আইএসএফ কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল ধর্মতলা চত্বর। ভাঙড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আইএসএফ কর্মীদের সংঘর্ষের জের এসে পড়ল কলকাতার রাজপথেও। তাঁদের বিক্ষোভ থামাতে টিয়ার গ্যাস চালাতে হয় পুলিশকে। যার জেরে স্তব্ধ হয়ে গেল মধ্য কলকাতার যান চলাচল।
ভাঙড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন আইএসএফের কর্মীরা। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার কলকাতায় সভা ছিল আইএসএফের। দলের কর্মীরা বিক্ষোভ দেখানোর পর তাঁদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। কার্যত টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে। পরে তাঁকে গ্রেফতার করার কথা জানায় পুলিশ। পাল্টা পুলিশকে আক্রমণ করার অভিযোগ ওঠে নওশাদের দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। উন্মত্ত জনতাকে থামাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। পাল্টা বাঁশ, লাঠি নিয়ে পুলিশকে তাড়া করেন আইএসএফের কর্মীরা।
রাস্তায় অবস্থানে বসে পড়া আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে হঠাৎই মারমুখী হয়ে ওঠে পুলিশ। পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে চটি, পাথর ছোড়া হয়। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে দু’পক্ষেরই একাধিক জন আহত হয়েছেন। আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাননি সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও।
অন্যদিকে, শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল ভাঙড়। এদিন ছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা ISF-এর প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই উপলক্ষ্যে পতাকা লাগানো নিয়ে ভাঙড়ে অশান্তির সূত্রপাত। ISF- এর অভিযোগ, ভাঙড়ের হাতিশালা মোড়ে পতাকা লাগাতে বাধা দেয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। স্থানীয় তৃণমূল নেতা জুলফিকার মোল্লার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, পতাকা লাগানোর সময়, তাঁদের কর্মী সমর্থকদের গালিগালাজ ও মারধর করেন ISF’এর সদ্যসরা। ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূলের পার্টি অফিসে। পুলিশের সামনেই তৃণমূল এবং ISF-এর তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়।শুরু হয় বোমাবাজি,ওঠে গুলি চালানোর অভিযোগও।দুপক্ষেরই বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থক আহত হয় বলে অভিযোগ। এরমধ্যেই ISF কর্মীরা একের পর এক গাড়িতে, কলকাতায় প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিতে রওনা দিতে থাকেন। তখনও ফের ISF-এর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় ভাঙড়ের ISF বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির গাড়ি।




