নিজস্ব প্রতিনিধি(সতী কুমার): বছরের প্রথম দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন বছর কুড়ির তরুণ। আজ, রবিবার ভোররাতে দিল্লির রাজপথে একটি গাড়ি ধাক্কা মারে তাঁর স্কুটিকে, তার পরে ছেঁচড়ে নিয়ে যায় ১২ কিলোমিটার রাস্তা! শেষমেশ মৃত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে পালায় গাড়িটি।
ইতিমধ্যেই গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল অভিযুক্ত। দুর্ঘটনা ঘটানো গাড়িটি মারুতি সুজুকি বলেনো। জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ক্রেডিট কার্ড এজেন্ট, একজন গাড়ির চালক এবং এক রেশন দোকানের মালিক রয়েছে। এই ঘটনায় টুইট করে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সক্সেনা লিখেছেন, ‘লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে।’ এই ঘটনাকে তিনি ‘দানবীয় অসংবেদনশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে মৃত যুবতীর অভিভাবক যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। জাতীয় মহিলা কমিশন সেই মতো তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, ঘাতক মারুতি গাড়িটি তরুণীর স্কুটিতে ধাক্কা মারার পর ইউ টার্ন নিয়ে উল্টো দিকে এগোতে থাকে। সেই রাস্তাতেই একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে স্থানীয় যুবক দীপক দাহিয়ার। তিনি জানিয়েছেন, রাত ৩.২০ নাগাদ দোকান থেকে ১০০ মিটার দূরে বীভৎস আওয়াজ শুনতে পান তিনি। দীপক বলেন, ‘‘প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, গাড়ির চাকা ফেটে গিয়েছে। কিন্তু তার পর দেখলাম, এক তরুণীর দেহ টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশে খবর দিই।’’
সিসিটিভি ফুটেজেও দীপকের কথার সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেখা গিয়েছে, গাড়ি যে দিকে যাচ্ছিল, স্কুটিতে ধাক্কা মারার পর সম্পূর্ণ উল্টো দিকে ঘুরে আবার তা চলতে থাকে। গাড়ির চাকার সঙ্গে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে এগোয় তরুণীর দেহও। তরুণীর দেহ চাকায় নিয়ে কয়েক কিলোমিটার ছুটেছিল সেই গাড়ি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দেহ গাড়ি থেকে সরে যায়। তার পর তার পর আরোহীরা পালিয়ে যান। গাড়িতে যে ৫ জন ছিলেন, সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গাড়ির নম্বর দেখে তাঁদের ধরেছে পুলিশ। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের গাড়ি একটি স্কুটিতে ধাক্কা মেরেছিল ঠিকই, কিন্তু চাকার সঙ্গে তরুণীর দেহ আটকে ছিল, তা তাঁরা জানতেন না।
দীপক জানান, তিনি গাড়িটিকে থামতে বলেছিলেন। এমনকি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পর নিজে বাইক নিয়ে গাড়ির পিছনে ধাওয়াও করেছিলেন। কিন্তু গাড়িটিকে থামানো যায়নি। দীপকের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। ইচ্ছাকৃত ভাবে তরুণীকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গাড়ির চাকায়।




