২০২৪ সালের প্যারিসের দুর্গাপুজোর দুর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে প্যারিসে বসেই
, শিল্পী অভিজিৎ ঘোষ . এই পুজো বাংলা এবং ফরাসি যৌথ উদ্যোগে আয়োজন হয়েছে প্যারিসের এক কাছে শহর ওভারভিলিয়েতে, যা যথাযথ নিয়ম আচার অনুষ্ঠানের সাথে পালিত হবে আমাদের বাংলার শারদ উৎসবের সময়ই. অভিজিৎ নদীয়ার বড়জাগুলি গ্রামের ছেলে, শান্তিনিকেতন এবং তারপর এন আই এফ টি থেকে টেক্সটাইল ডিজাইন নিয়ে মাস্টার করার পর বেশ কিছু সময় ডিজাইনার হিসাবে কাজ করে দিল্লি এবং পানিপথে, সেই সময় থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন হোম টেক্সটাইল ব্র্যান্ডের সাথে কাজের সুযোগ এবং ইউরোপের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত শুরু… বিশ্ব মানবের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং বিশ্ব- সংস্কৃতির পরিচয় তথা আদান-প্রদানের জন্য সে পাড়ি দেয় প্যারিসে ২০২0 সালে. প্যারিসের এক প্রতিষ্ঠিত স্কুল ক্যানাম ( CNAM- কনসারভেতোয়া ন্যাশনাল দি আর্থ এ মেতিয়ে) থেকে ফ্যাশনের ওপর এমবিএ করতে অভিজিৎ এই শহরে পা রাখে তখন থেকেই এই শহরের প্রেমে পড়া বিশ্ব সংস্কৃতির শহর প্যারিসে থাকা শুরু থেকেই বিশ্বসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় শুরু হয় প্যারিসের শীতে ইউনিভার্সিটি ( CITE UNIVERSITY) থেকে. এই ইউনিভার্সিটি এমন একটি স্থান যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি হয় বিশ্ব মানবের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করার জন্য. এ এমন এক ক্ষেত্র যেখানে বিশ্ব সংস্কৃতির আদান প্রদান হয়। যেখানে ৪৪ টা বিভিন্ন দেশের বাড়িতে 10 হাজার রেসিডেন্ট এবং একশো দশ এর মত বিভিন্ন ন্যাশনালিটির ছাত্র শিল্পী রিসার্চের অবস্থান. অভিজিতের সাথে কথা বলতে বলতে জানতে পারলাম – এই সময় থেকেই নিজের শহর কলকাতা নিজের দেশ ভারতবর্ষের কথা বলার এক ইচ্ছা জন্মায় এই প্যারিসে দুই শহরের মিশ্রণ কলকাতা এবং প্যারিস এর মধ্যে এক শিল্প মননের সেতু বানিয়ে …এই দুই শহরের শিল্প সভ্যতার আদান-প্রদানের এক আদম্য চেষ্টা সে চালিয়ে যাচ্ছে সেই সময় থেকে . অভিজিৎ বলে প্যারিস তাতা ফ্রান্সে আমার পরিচয় একজন চিত্রশিল্পী হিসাবে যে ভারতীয়,বাংলা তথা ইউরোপিয়ান কিংবা বিশ্ব মিথলজি কে মিশিয়ে প্যারিসে বসে ছবি আঁকে মানব সভ্যতার কথা বলার জন্য. তার কাজ দুই দেশের শিল্প সংস্কৃতি সভ্যতা এবং ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য, কারণ এই দুই দেশের সময়ের সাথে সে বার বার মনুষ্যত্বের গল্পের অনেক মিল খুঁজে পায়। ভারতীয় মিথলজি বাংলার ফোকলোরিক শিল্প যেমন পটচিত্র মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল, আলপনা, মৃৎশিল্প ইত্যাদি তার প্রেরণা.. বাংলা তথা প্যারিসের যোগসূত্র ঘটাতে . একদিকে সে যেমন প্যারিস তাতা ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কিংবা ইউরোপে নানা দেশে চিত্র প্রদর্শনী করে বাংলার কথা বলতে চায়, ঠিক সেই ভাবেই ভারতবর্ষ-কলকাতা থাকাকালীন সে তার চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ফ্রান্সের কথা বলতে চায় । এবছর যখন প্যারিসের দুর্গা পুজো সংগঠন অভিজিৎ কে শিল্পী হিসেবে এই দুর্গামূর্তি বানানোর জন্য অনুরোধ করলে, অভিজিতের কাছে এক নতুন দরজা খুলে বাংলা শিল্পের কথা বলার ভারতীয় গান্ধার আর যে সময় ভারত এবং গ্রিক শিল্পের এক সমন্বয় হয় সেই শিল্পকর্ম এবং বাংলার ডাকে সাজ এই দুটোকে মিশ্রণ করে তার মূর্তি বানানোর কাজ শুরু হয় প্যারিস তথা ফ্রান্সে বাংলার আবার এক অন্যতম শিল্পকর্মের পরিচয় দেবার জন্য. গান্ধার শিল্পের বস্ত্রের ড্রেপ যা সে প্যারিসের বিভিন্ন চার্চের মূর্তি গুলির মধ্যে খুঁজে পায়. সেই গান্ধার শিল্প বাংলার অন্যতম ডাকের সাজ পটচিত্রের একচালা সব মিশিয়ে সে যেন দুর্গামূর্তির রূপ আস্তে আস্তে দেখতে পায়। এই মুক্তির কাঠামো তথা এই মূর্তির কাঠামোর কাঠের কাজ তার এক পর্তুগিজ বন্ধু করেছে ভেতরের অবয়ব তৈরি হয়েছে কার্টুনের মণ্ডকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে কারণ এখানে বিচুলি পাওয়া যায় না। তারপর মাটির কাজ। এখানে দেবদেবীর সারি চুল গয়না এগুলি পাওয়া যায় না বলি সব কিছু রূপান্তর হয়েছে মাটি দিয়ে। মূর্তিটি তিনটে পার্টি তিনটে চালিতে করা এই চালির মাধ্যমে সে এখানে বাংলার চালচিত্রের আসল গল্প বলতে চাই। মূর্তির হাইট দেড় মিটার এবং চওড়ায় ৩ মিটার. কলকাতা এবং প্যারিসের এই দুই শহরের আদান-প্রদানের বোধ থেকেই ২০১৭ সাল থেকে অভিজিৎ তার নিজের গ্রামের বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করে। যেখানে প্রত্যেক বছর তার বিভিন্ন ইউরোপিয়ান বন্ধু তার সাথে আসে এই পুজো দেখার জন্য এবং একই সাথে এক চেষ্টা এই বাংলা এবং কলকাতার শহরকে তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার এই কলকাতায় এবং বাংলায় আবার যেন বিশ্ব মানবের অবস্থান হয়। এ বছরও দুর্গা পুজোর সময় অভিজিৎ কলকাতায় থাকবে বাড়িতে পুজো করার জন্য। এবং তার সাথে আবার কিছু বিদেশী বন্ধুর আগমন হবে তার এই প্রচেষ্টাকে চালিয়ে যাবার জন্য… দুর্গাপুজোর পর কলকাতার এলিয়ন্স ফ্রান্স অফ বাঙ্গাল এবছর অভিজিতের এক চিত্র প্রদর্শনীর তথা সেমিনারের আয়োজন করেছে ঠিক একইভাবে বাংলার মানুষের কাছে ফ্রান্সের-প্যারিস শহরের গল্প শোনানোর জন্য…




