নিজস্ব প্রতিনিধি(সতীশ কুমার): আশঙ্কা ছিলই। অবশেষে গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। কেন? মুখ বন্ধ রাখতে পর্নস্টারকে নাকি ঘুষ দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনাটি ঠিক কী? পুলিসের দাবি, ২০১৬ সালে বিপুল টাকা ‘হাস মানি’ দিয়েছিলেন অ্যাডাল্ট ফিল্ম স্টার স্টরমি ড্যানিয়েলসকে। কী এই হাস মানি? কোনও বড়সড় বিষয় চেপে যাওয়ার জন্য ঘুষের টাকাকেই মূলত এভাবে বলা হয়ে থাকে।
এর আগে, সোমবার মামলার শুনানিতে রবার্ট কাস্টেলো নামে এক সাক্ষী আদালতে জানিয়েছেন ট্রাম্পের ফিক্সার মাইকেল কোহেন, স্টরমি ড্যানিয়েলসকে ওই ঘুষের টাকা দিয়েছেন। ওই সাক্ষ্য দেওয়ার পরই ট্রাম্প ধুয়ো তুলেছেন তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। শেষপর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।
তবে গ্রেফতার হলেও আটক নন ট্রাম্প। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত ১২টার একটু আগেই গ্রেফতার হন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। এ দিন পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডলার ‘ঘুষ’ দেওয়ার ফৌজদারি মামলায় তাঁর ম্যানহাটন আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। গত সপ্তাহেই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছিল নিউ ইয়র্কের গ্র্যান্ড জুরি। কিন্তু মঙ্গলবার ট্রাম্প আত্মসমর্পণ করার আগেই বিচারক হুয়ান মারচেনের নির্দেশে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এ দিন আদালতে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ৩৪টি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়, যার প্রতিটিতেই নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন ডন। ঘণ্টাখানেকের শুনানি শেষে নিউ ইয়র্ক ছেড়ে ফ্লরিডার উদ্দেশে পাড়ি দেন ট্রাম্প।
আদালতে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে সংবাদমাধ্য়মে কথা বলতে চাননি ট্রাম্প। তবে পরে ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দেশটাকে নরকে নিয়ে যাচ্ছেন। গোটা দুনিয়া আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। জীবনে কখনও ভাবিনি আমেরিকায় এ জিনিস হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য সাহস দেখিয়েছিলাম। যা হয়েছে তা গোটা দেশের জন্য অপমান।’ অন্যদিকে, ট্রাম্পের আইনজীবী বলেন, ‘অত্যন্ত অপমানজনক এই জেলে যাওয়া। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করব।’
তবে গতকাল ট্রাম্পের গ্রেফতারির পরই তার সমর্থকরা ভাঙচুর, গোলমাল পাকাবে বলে মনে করা হয়েছিল। এমনকি কোনও কোনও মহল থেকে এমনও বলা হচ্ছিল যে ক্যাপটল হিলের স্মৃতি ফিরতে পারে। সেই আশঙ্কায় কড়া নিরাপত্তার মুড়ে ফেলা হয়েছিল নিউ ইয়র্ককে।




