নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। এটা তাঁদের নিজেদের বিষয়, তাঁরা নিজেরাই বলবে।
প্রায় ২৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রতারিতদের সঙ্গে নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের ইডি (ED) দফতরে যান বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা।
তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক মানুষকে প্রতারণার অভিযোগ আনেন শঙ্কুদেব। এদিন দুর্নীতির সঙ্গে তিনি কোনও ভাবে জড়িত নন বলে দাবি করেন নুসরত। অভিযোগ উঠেছে, ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়ার নামে নুসরত জাহানের একটি সংস্থার বহু ব্যাঙ্ককর্মীর কাছ থেকে। কিন্তু কাউকে ফ্ল্যাট দেওয়ার হয়নি। নুসরত ওই সংস্থার অন্যতম অধিকর্তা ছিলেন। আরও অভিযোগ (Corruption Allegation), উল্টে সেই টাকায় নুসরত পাম অ্যাভিনিউয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। এই অভিযোগের জবাব দিতে তৃণমূল সাংসদ বুধবার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন। নুসরতের দাবি, তিনি ২০১৭ সালে কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেন। ওই কোম্পানিতে তাঁর কোনও ছিল না। তৃণমূল সাংসদ আরও জানান, ওই সংস্থা থেকে তিনি ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রায় ১কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা সুদ সমেত ফেরত দিয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।
প্রতারিতদের ব্যাঙ্ককর্মীদের অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে দফায় দফায় ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে টাকা নবেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছিল, পরবর্তী চার বছরের মধ্যে ফ্ল্যাট হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে ২০১৮ সালের পরও ফ্ল্যাট পাননি তাঁরা। ওই প্রতারিতদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে যান ইডির কাছে অভিযোগ করতে।রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও দাবি করেন, এটি একটি বিশাল কেলেঙ্কারি। সোমবার নুসরতের সঙ্গে কোনও ভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বুধবার তিনি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় আমি কারও ফোন ধরতে পারিনি। এরপরই অভিনেত্রী সাংসদ বারবার দাবি করেন, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। এ ব্যাপারে তিনি ৩০০ শতাংশ নিশ্চিত।




