নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়)তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান। এর ২৪ ঘণ্টা পরই ফের তৃণমূলে ফিরে আসায় রাস্তায় দণ্ডি কেটে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে চার আদিবাসী মহিলাকে । এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়েছে বালুরঘাটজুড়ে। এই ঘটনায় পঞ্চায়েত ভোটের আগে বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দণ্ডি কেটে দলে যোগদানের কোনও রীতি রেওয়াজ নেই বলে দাবি করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার। এদিকে, গ্রামছাড়া যোগদানকারী মহিলারা। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। আগামীদিনে বড়সড়ো আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের গোফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁধ শনকইর গ্রামের প্রায় দু’শো জন তৃণমূলকর্মী গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন বলে দাবি করে বিজেপি। শুক্রবার এরমধ্যে চারজন মহিলা কর্মী আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন বলে দাবি করে ঘাসফুল শিবির। যদিও বিজেপিতে যাওয়ায় রীতিমতো রাস্তায় দণ্ডি কেটে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে ওই মহিলাদের। আর এ নিয়েই হইচই পড়েছে জেলাজুড়ে।
এদিকে, ওই মহিলাদের কোনও খোঁজ মিলছে না বলে জানা গিয়েছে। তা নিয়ে গ্রামের কেউই মুখ খুলতে চাননি। যদিও ঠাকরান সোরেন নামে যোগদানকারী এক মহিলার ছেলে জানান, তাঁর মা আগে থেকেই তৃণমূলে ছিলেন। বিজেপির কোনও যোগদানে তিনি যাননি। গতকাল রাতে মা বালুরঘাটে গিয়েছিলেন। রাতে আবার ফিরেও আসেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, জোর করে আদিবাসী মহিলাদের দণ্ডি কেটে তৃণমূলে যোগদান করানো হয়েছে। তা নিন্দনীয়। আদিবাসী মহিলাদের এইভাবে অপমান করার প্রতিবাদে তাঁরা আগামীদিনে বড়সড়ো আন্দোলনে নামবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার বলেন, ‘দলে কাউকে যোগ দেওয়াতে হলে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে জানাতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে
কোনও খবর ছিল না। আমাদের অন্ধকারে রেখেই এই যোগদান করানো হয়েছে।’ মহিলাদের দণ্ডি কাটা প্রসঙ্গে মৃণালবাবু বলেন, ‘দণ্ডি কাটিয়ে দলে যোগ দেওয়ানোর কোনও রীতি তৃণমূলে নেই। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’




