নিজস্ব প্রতিনিধি(সতীশ কুমার): ভারতকে দূষণহীন জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে চাইছে কেন্দ্র। এ বার ওই পণ্যের দাম নির্ধারণের নতুন সমীকরণে সম্মতি দিল তারা। এর ফলে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত পরিবহণ জ্বালানি (সিএনজি) এবং পাইপবাহিত রান্নার গ্যাসের (পিএনজি) দাম ১০% পর্যন্ত কমতে পারে বলে দাবি সরকারের।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জানান, এবার থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত যাবতীয় জ্বালানির দাম ঠিক হবে আমদানিকৃত অশোধিত তেলের দামের নিরিখে। এর আগে ভারতে বছরে দু’বার প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সংশোধন করা হত। তবে এবার থেকে প্রতি মাসে সেই দাম খতিয়ে দেখে সংশোধন করা হবে।
সিএনজি-পিএনজির দাম কমিয়েছে আদানি টোটাল গ্যাস লিমিটেড (এটিজিএল)। প্রতি কেজি সিএনজির দাম কমেছে 8.13 টাকা ও অন্যদিকে পিএনজির প্রতি কেজির দাম 5.06 টাকা কমেছে। নতুন দাম 8 এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কমানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার দেশীয় গ্যাস দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন ফর্মুলা কার্যকর হওয়ার পরেই এটিজিএল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন ফর্মুলা বাস্তবায়নের ফলে বাজারের ওঠা-নামায় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারীর কোনও ক্ষতি হবে না। আন্তর্জাতিকভাবে গ্যাসের দাম ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে গ্রাহক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবেন তারা। কেন্দ্রের দাবি এই নয়া পদক্ষেপে দিল্লিতে প্রতি কেজি সিএনজির দাম ৭৯.৫৬ টাকা থেমে কমে হতে পারে ৭৩.৫৯ টাকা। অপরদিকে হাজার ঘন মিটার পিএনজির দাম ৫৩.৫৯ টাকা থেকে কমে ৪৭.৫৯ টাকা হতে পারে। এদিকে মুম্বইতে সিএনজির দাম প্রতি কেজিতে ৮ টাকা কমে ৭৯ হতে পারে। পিএনজির দামও পাঁচ টাকা কমে ৪৯ টাকা হতে পারে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন। জ্বালানির দাম কমায় বহু ক্ষেত্রে উৎপাদন মূল্য অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া সার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সস্তায় গ্যাস পাবে। এর ফলে সারের দাম কমানোরও সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতকে দূষণহীন জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে চাইছে কেন্দ্র। সেকারণেই এই নয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।




