নিজস্ব প্রতিনিধি(সতীশ কুমার): সাংসদ পদ ফেরত পেলেন রাহুল গান্ধী। সোমবারই লোকসভা সেক্রেটারিয়েটের তরফে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ওয়ানড়ের সাংসদের পদ ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই খবর পাওয়ার পরেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন দলের কর্মী সমর্থকরা। ১০ জনপথ রোডে রাহুল গান্ধীর বাসভবনের সামনে নাচগান শুরু করেন তাঁরা।
মোদী পদবি অবমাননা মামলায় রাহুলকে গত মার্চ মাসে দোষী সাব্যস্ত করেছিল সুরাতের আদালত। তাঁকে দু’বছরের কারাদণ্ডও দিয়েছিলেন সুরাত ম্য়াজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক। যিনি এক সময়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আইনজীবীও ছিলেন। ওই শাস্তির ফলেই রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যায়। কারণ, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮(১) ধারা অনুযায়ী, কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাংসদ-বিধায়কের দু’বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হলে তৎক্ষণাৎ তাঁর সাংসদ বা বিধায়ক পদ চলে যায়। এমনকি, আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাহুলের ভোটে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। কিন্তু শুক্রবার রাহুলের সেই শাস্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের পরই রাহুলের সাংসদ পদ ফিরে পাওয়ার রাস্তা সুগম হয়।
শুক্রবারের সুপ্রিম স্থগিতাদেশের পরই রাহুলকে তাঁর সাংসদ পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য লোকসভায় আর্জি পেশ করেছিল কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল বলেন, ‘‘আমরা আশা করব স্পিকার যেমন দ্রুততার সঙ্গে রাহুলজির পদ খারিজ করেছিলেন, তেমনই সক্রিয়তা দেখা যাবে সাংসদ পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও।” লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরীও বলেন, ‘‘রাহুলজিকে সাংসদ পদ ফিরিয়ে দিতেই হবে।’’ তার ৪৮ ঘণ্টা পরেই রাহুলকে তাঁর সাংসদ পদ ফিরিয়ে দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, তার আগে সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ লোকসভায় আসার কথা কেরলের ওয়েনাড়ের সাংসদ রাহুলের।এই সিদ্ধান্তের ফলে মঙ্গলবার বিরোধীরা যখন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবেন, তখন সংসদে উপস্থিত থাকবেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল। সে ক্ষেত্রে মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিতেও দেখা যেতে পারে তাঁকে।




