HomeStateসাগরদিঘি উপনির্বাচনে হারের কারণ খুঁজতে অন্তর্তদন্ত তৃণমূলে

সাগরদিঘি উপনির্বাচনে হারের কারণ খুঁজতে অন্তর্তদন্ত তৃণমূলে

spot_img
- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): সাগরদিঘি বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে পরাস্ত হন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধায়। তৃণমূলের পরাজয়ের কারণ খুঁজতে অন্তর্তদন্তে নামল তৃণমূল নেতৃত্ব।

২০১১ সাল থেকে সাগরদিঘি আসনে বিধায়ক ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুব্রত সাহা। সাগরদিঘি আসন নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আসনটি ধরে রাখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক তারকা প্রার্থীদের প্রচারে পাঠিয়েছিল তৃণমূল। তেমনি মুর্শিদাবাদ জেলার ১২ জন শীর্ষ নেতা–নেত্রীকে ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘির ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই এগিয়েছিলেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা সুব্রত সাহা। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর মাত্র দেড় বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনেই পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে সুব্রত সাহা পেয়েছিলেন ৯৫,১৮৯ ভোট (৫০.৯৫%)। উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী এবার পেয়েছেন ৮৭,৬৬৭ ভোট (৪৭.৩৫%)। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত ভোট ৬৪,৬৮১ (৩৪.৯৪ %)। উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাতে উঠে এসেছে ‘‌মেরুকরণের ভোটে’‌ কংগ্রেসের বাইরন বিশ্বাস যেমন সুবিধা পেয়েছেন, তেমনই বেশ কিছু বুথে বিজেপি কর্মীরা সক্রিয়ভাবে বাম–কংগ্রেস জোট প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সাহায্য করেছেন বলে দাবি তৃণমূলের নেতৃত্বের। পাশাপাশি তৃণমূল নেতৃত্ব জানতে পেরেছেন, বাইরন বিশ্বাস বহু অঞ্চলে টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করেছেন। কিন্তু এছাড়াও তাদের উপনির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবে মনে করছেন নিজেদের দলের মধ্যে কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের বোঝাপড়ার অভাব। সাগরদিঘি বিধানসভার তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলের এক শ্রেণীর নেতার ওপরে। উপনির্বাচনে যেভাবে দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উপনির্বাচন পরিচালনের জন্য তাদের ভালো ভাবে মেনে নেয়নি কর্মীরা। তাছাড়াও তৃণমূলপ্রার্থী দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে সব মিলে শাসক দলের এই হারকে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা দিছেন তৃণমূলের নেতারা।

জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান কানাই চন্দ্র মণ্ডলের বক্তব্য, বাম কংগ্রেস জোট অনৈতিক। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী টাকার বিনিময়ে ভোটে জয় লাভ করেছে। আমাদের রাজ্য সহ জেলার নেতৃত্ব যেভাবে কাজ করেছে তাতে আমাদের জয় নিশ্চিত ছিল। তৃণমূলের এই দাবিকে অস্বীকার করে জঙ্গিপুর মহকুমার কংগ্রেসের সভাপতি হাসানুর জামানে বক্তব্য, এই ধরণের কথা বলে তারা সাগরদিঘির মানুষকে অপমান করছেন। এই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে শুধু মাত্র সাগরদিঘির মানুষ নয় সারা বাংলার মানুষ প্রতিবাদ শুরু করেছেন। তার প্রথম ধাপ শুরু হল সাগরদিঘি থেকে।

RELATED ARTICLES
spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments