নিজস্ব প্রতিনিধি(সতীশ কুমার): আবারও রাজ্যের প্রকল্পকে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিল কেন্দ্রের মোদী সরকার। এবার কেন্দ্রের দেওয়া প্ল্যাটিনাম ডিজিটাল পুরস্কার পেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত দুয়ারে সরকার প্রকল্প। শনিবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনের অনুষ্ঠানে রাজ্যকে এই পুরস্কার দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাজ্য সরকারের হয়ে এদিন এই পুরস্কার গ্রহণ করেছেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
এদিন পুরস্কার গ্রহণের পর বলেন, “২০২০ সালের পয়লা ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে শুরু হয় এই পরিষেবা। মোট পাঁচ দফায় রাজ্যের বিভিন্ন শহরে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে ভিজিটরের সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। মোট ৭.৮ কোটি আবেদন জমা পড়েছিল। যার মধ্যে ৬ কোটি ৭০মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সংখ্যাকে তো অস্বীকার করা যায় না। তাই বিরোধীরা যতই এই প্রকল্পকে কটাক্ষ করুক, খোদ কেন্দ্রই আমাদের সম্মানিত করল।”
বঙ্গ বিজেপিকে নিশানা করে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার নিজেই যে মানুষের দুয়ারে যেতে পারে, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে দেখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই প্রকল্প নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধীদের একটা নেতিবাচক মনোভাব ছিল। কত রকমের কটাক্ষ করা হয়েছে। যমের দুয়ারে সরকারও বলা হয়েছে। কিন্তু এই পুরস্কারই প্রমাণ করে দিচ্ছে আমরা কতটা সফল। শুধু এটুকুই বলব, ওরা মানুষের কথা ভাবে না, তাই মানুষও ওদের পাশে থাকে না।”
এপ্রসঙ্গে রাজ্যের বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য মনে করেন প্রকল্প পুরস্কৃত হল ঠিকই তবে এর প্রয়োগে রয়েছে ব্যর্থতা। তাঁর কথায়, ‘আমরা আগেও এর সমালোচনা করেছি এখনও করছি। আমরা আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলাচ্ছি না। একটা প্রকল্প পুরস্কৃত হতেই পারে। কাগজে কলমে অনেক জিনিসই হয়। আপনার দর্শন পুরস্কৃত হল। কিন্তু সেই দর্শন ফলিত আকারে পুরস্কৃত হল না। একদিকে দুয়ারে সরকার চলছে অন্যদিকে তৃণমূল তৃণমূলকে বোমা মারছে।সরকার ডিএ দিতে পারছে না। এখন এই পুরস্কারের কী মূল্য আছে।’
অন্যদিকে, দুয়ারে সরকার কেন্দ্রের স্বীকৃতি পাওয়ায় স্বভাবতই খুশি তৃণমূল নেতৃত্ব। কুণাল ঘোষ এদিন বলেন, ‘নানা কুৎসা ও চক্রান্তের পরেও কেন্দ্রীয় সরকারই ঠিক করলেন দুয়ারে সরকার শ্রেষ্ঠ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পুরস্কার তুলে দিলেন। এটা বাংলার কাছে গর্বের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভালো কাজের স্বীকৃতি মিলল। একইসঙ্গে বিরোধীদের জন্য এখন দুয়ারে হতাশা।’




