নিজস্ব প্রতিনিধি(সতীশ কুমার): রাহুল গান্ধী ঠিক যা যা বলেন, তাঁর সভায় এসে ঠিক তাই তাই বললেন এক প্রবাসী ভারতীয় মহিলা। রাহুল যেমন বলেন, ভারতের মূল ভাবনাকেই বদলে দিয়েছে RSS, বিজেপির আমলে ভারতের গণতন্ত্র বিপদে। মালিনী মেহেরা নামের এই প্রবাসী মহিলাও ঠিক তেমনটাই বললেন। বললেন আজকের ভারতকে তিনি চিনতে পারেন না। বললেন, তাঁর বাবা একজন আরএসএস (RSS) কর্মী, তিনিও আজকের ভারতের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করতে পারেন না। নিমেষে ওই প্রবাসী মহিলার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
রাহুল গান্ধীর লন্ডন সফর নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। এবার এই বিতর্কে আরও এক অন্য মাত্রা যোগ হল। লন্ডনে রাহুলের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসকে পালটা তোপ দেগেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে ভারতের অসম্মান করছেন রাহুল। তবে কংগ্রেস নেতার দাবি, তিনি সত্যিটা তুলে ধরছেন। এই অভিযোগ, পালটা অভিযোগের মধ্যে এবার প্রকাশ্যে এল রাহুলের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো। সেই ভিডিয়ো ভাইরালও হয়েছে। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, লন্ডন ভিত্তিক এক সংস্থার সিইও মালিনী মেহরা রাহুলকে দেশের গণতন্ত্র নিয়ে নিজের মতামত জানাচ্ছেন।ভাইরাল ভিডিয়োতে মালিনীকে বলতে শোনা যায়, ‘দেশের এই অবস্থা দেখে আমার খুবই খারাপ লাগছে। আমার বাবা আরএসএসের সদস্য ছিলেন। তিনি খুব গর্ব বোধ করতে তা নিয়ে; তবে আজ তিনিও এই দেশকে চিনবেন না। তাঁর আত্মা যেন শান্তিতে থাকে। আমার মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ রয়েছেন, যারা ভারতে জন্মেছে অথচ আজকের ভারতকে চিনতে পারেন না।’ এরপর মালিনী রাহুলকে প্রশ্ন করেন, ‘কীভাবে আমরা আরও বেশি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি? আমাদের গণতন্ত্রকে কীভাবে পুনরায় শক্তিশালী করতে পারি?’
বস্তুত, বহুদিন আগে থেকে ঠিক এই কথাগুলিই বলে আসছেন রাহুল গান্ধী । বারবার তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএস ভারতের মূল ভাবনায় আঘাত করছে। সেটাই এক প্রবাসী মহিলার মুখে শুনে বেশ উল্লসিত মনে হয় রাহুলকে। তিনি বলেন, “আপনি যেটা বললেন, আপনার বাবা আরএসএস কর্মী হয়েও নিজের দেশকে চিনতে পারছে না। সেটাই অনেক বড় ব্যাপার। আপনি যেটা বললেন, সেটারই আলাদা একটা প্রভাব রয়েছে। আপনার এই মন্তব্যের প্রভাব সুদূর প্রসারিত।” ওই মহিলাকে গণতন্ত্র শক্তিশালী করার উপায়ও বাতলে দিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি মনে বলেন,”ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন। যখনই সুযোগ পাবেন বারবার করে ভারতের মূল ভাবনা সম্পর্কে বলুন। বারবার ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে সরব হন। এটা প্রত্যেক ভারতীয়র কর্তব্য।”উল্লেখ্য, মালিনী মেহরার ২০১৭ সাল থেকে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের স্থিতিশীল উন্নয়ন বিষয়ক কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি লন্ডন ক্লাইমেট অ্যাকশন সপ্তাহের একজন দূত। এদিকে মালিনীর এই ভিডিয়ো ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। মালিনীর ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই ইনফোসিসের প্রাক্তন ডিরেক্টর টিভি মোহনদাস পাই বলেন, ‘ভুলভাল! এই অর্থনৈতিক উদ্বাস্তুরা (মালিনী মেহরা) বহু বছর আগেই ভারত ছেড়েছেন। আমরা দেশে থেকেছি, কঠোর পরিশ্রম করেছি, ট্যাক্স দিয়েছি এবং আমাদের দেশকে গড়ে তুলেছি! এখন তাঁরা ফালতু কথা বলছে। ভারতকে গালি দেওয়ার জন্যই আছেন তারা। তাদের দরকার নেই। তাদের দেশ থেকে দূরে রাখা উচিত। আপনাদের সঙ্গ ছাড়া আমরা ভালো আছি! এই অপব্যবহার বন্ধ করুন।’




