নিজস্ব প্রতিনিধি(রজত রায়): ঠাকুরবাড়িতে বিরোধী দলনেতা, দেখা করলেন বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া ও মতুয়া ভক্তদের সঙ্গে। সেখানেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাদষধ্যায় ও রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি।
পাশাপাশি অভিষেককে চরম হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
রবিবার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে আসেন। হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট বাঁধে। শান্তনু ঠাকুর কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মন্দির দখল করে রাখেন, ফলে অভিষেক মন্দিরে ঢুকতে পারেননি। অভিষেক চলে যাওয়ার পর হাসপাতাল চত্বরে দু-পক্ষের মধ্যে মারপিট বাঁধে। বিজেপির বিধায়ক, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ অনেকেই আহত হন। মঙ্গলবার ঠাকুরবাড়িতে শান্তনু ঠাকুর ও মতুয়া ভক্তদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু বলেন, ‘ঠাকুরবাড়িতে যারা এসেছিলেন, তারা অনুমতি নেয়নি। কেন তারা তাদের জায়গায় প্রবেশ করতে দেবেন।’ তিনি বলেন, ‘বীণাপাণি দেবীর সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা হয়েছে অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, তার অর্থের চিকিত্সা করা হয়েছে। এত বড় গর্হিত অপরাধ করেছেন। ঠাকুরকে অপমান করেছেন প্রশাসনিক বৈঠকে। ঠাকুরের নাম বিকৃত করে বলছেন এ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।’
শুভেন্দু আরও বলেন, “আমি এখানে আগেও এসেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও এসেছি। কিন্তু কোনও দিন বিজেপির পতাকা আমরা এখানে ঢুকতে দিইনি। তারা তৃণমূলের পতাকা নিয়ে এসেছে। এখানে বাংলাদেশের স্লোগান জয় বাংলা বলা হয়েছে। এই পবিত্র স্থানে কোনও দুষ্কৃতী থাকতে পারে না। এখানে খুন হওয়া বা মার খাওয়ার ভয় কারও থাকতে পারে না। এটা ভগবানের জায়গা। সেখানে হাজার হাজার পুলিশ এনে মাতব্বরি!
পুলিশ কুকুর দিয়ে তল্লাশি করা! আজকে মতুয়া সমাজ যেভাবে প্রতিবাদ করেছে আমি বিজেপি বিধায়ক হিসেবে নয়, একজন সনাতনী হিন্দু হিসেবে আমি মনে করি পশ্চিমবাংলায় তারা পথ দেখিয়েছেন।”
তাঁদের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা, ঠাকুরের মত-পথ তাকে বোঝাপড়া না করে, সরকারের রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে যেভাবে তারা প্রতিবাদ করেছে, আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই’, সংযোজন শুভেন্দুর।
অপরদিকে শান্তনু ঠাকুর বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেটা করেছেন, সেটা অন্যায় করেছেন। ঠাকুরবাড়ি একটা শ্রদ্ধার জায়গা, সেই জায়গাকে ও এসে কলুষিত করেছে, পুলিশ দিয়ে সর্বপ্রথম। তারপর নিজের পোষা বাহিনী এনে ঠাকুরবাড়ি ক্যাপচার করা, এতে প্রমাণিত হয় ও সম্পূর্ণভাবে একজন ভিকটিম পার্সেন।”
তিনি আরও বলেন, “এটা সিডিউল কাস্টের সিমপ্যাথির জায়গা, ধর্মের আচারের-বিচারের জায়গা। সেই জায়গায় এসে সেখানকার যারা ধর্মপালক, ধর্মগুরু তাঁদের বিরুদ্ধে যে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ও ব্যবহার করেছে, আমার মনে হয়, এটা সারা মতুয়া সমাজ কখনও ভুলবে না এবং ও কোনও দিন ভুলবেন না, আগামীতে যে পদক্ষেপ ওর বিরুদ্ধে করা হবে।”




